যামিনী ও আলোকপদ্ম
- বোরহান আজমীর

আহা! কী রম্য সে রজনী, নবনীল চরণপদ!
চন্দ্র কপোল তমসাচ্ছন্ন—তবু রসে অরুণরদ।
আলোকপদ্ম জোনাকিটি জ্বলে নিশিপ্রেমে পথে,
প্রেমে বিভোর, দীপ্তি নিবেদিত যামিনীর অভিমতে।
সে তো দিবানিশা ভোলা, স্বপ্নবর্জিত, নীর্ঘুম,
চাহে যামিনীর আঁচল লয়ে দীপ্তি নিশিকুম্ভ।
দীপ তার নয় বিভাসকর, নয় সে নক্ষত্র জ্যোতি,
সে তো কম্পিত প্রেমের কণা নিশির বুকে বর্ণবিনোতি।

কিন্তু হায়! যামিনী কাহে, “জোনাকি? ওরে দূর!
দীপ্যমান প্রণয় চাই মোর, নুইয়ে পড়া তোর আঁচুর!
আমি প্রেয়সী হ্যালোজেনের, প্রখর শিখা যার,
তোর দীপ্তি ম্লান, তোর গদ্যপ্রেম পুরাতন, নাহি আর!”
আলোকপদ্ম অস্ফুট হাসে, অশ্রু ঢাকা কণ্ঠে,
বলে, “আমি জ্বলি প্রেমে, নহে তেজে, নহে বণ্টে।
যতটুকু দীপ্তি মোর, নির্মলা নিখাঁদ,
অর্ঘ্য মোর আলো কোজাগরীর উপাদ!”

কিন্তু যামিনীর নরম নাই, গরলহাস্যে কহে,
“হে লঘুপ্রেমিক, লঘুজ্যোতিষ, তোরে ভালোবেসে কে হে?
আমার তরে প্রলয়-আলো, প্রকাণ্ড দীপ্তি চাই,
তুই যে নিঃস্ব, জ্বলিস ফাঁকা, তোরে কেহ বাঁচায়?”
উপেক্ষিত আলোকপদ্ম ঝরে আত্মবিসর্জনে।
আলোকপ্রেম আত্মাহুতি দেয় এক অনাম্নি গানে।
যুগে যুগে এভাবেই লয়ে শত শত দীপ্তিহীন,
তুচ্ছতায় তিরস্কারে পদ্মেরা যায় বিলীন।

সেই হেতু আজি নিশিপথে জোনাকির দেখা নাহি,
অধুনা প্রেমে বজ্রসুধা শিখায় প্রেমের দায়।
হে যামিনী! তুমি কি জানো, দীপ্তি নয় প্রেমের মান?
প্রেম তো চাহে নিবেদন, ক্ষীণতাও তাহে জ্ঞান।
আজও যেন বটের তলে, শতছায়া পল্লব ঢাকে,
স্মৃত্যাতুর দীপ্তিপদ্ম কুয়াশায় ছবি আঁকে।
সে ভাবে, “হে যামিনী! একটিবার মুখ তুলে চাও,
আমি যে তোর ক্ষীণ অনুরাগ—অম্লান, অনবদ্য, নাও!”


১৩-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।